Monday, August 8, 2016

ব্যাধি

কৌতূহলী এ প্রান হরহামেশাই জানতে চায় আসলে মানব জীবনে ছবি, ফটোগ্রাফ বা তৈলচিত্র বা তার বিকৃত সংস্করণ কুলফি তোলার উদ্দেশ্যটা কি! আদৌ কোন উদ্দেশ্য আছে কি!!!হ্যাঁ আছে বৈকি! ছবি ই পৃথিবীতে একমাত্র বস্তু যার মাধ্যমে আমরা কোন মুহূর্ত চিরদিনের জন্য একটা জায়গায় আটকে দিতে সক্ষম। সুন্দর কোন মুহূর্তের মূর্ত প্রতিচ্ছবি যা হয়তো আর কোনদিনও ফিরে পাবার নয় সে মাহেন্দ্রক্ষণ কে আটকে দেবার এক অভিনব মাধ্যম।
কিন্তু আসলেই কথায় আছে কোন জিনিস ই অতিরিক্ত ভালনা। কোন কাজ যখন স্বাভাবিকতার মাত্রা অতিক্রম করে তখন আমরা তাকে আদিখ্যেতা বলি, আর যদি আদিখ্যেতার মাত্রাও অতিক্রান্ত হয় তখন তা হয় মস্তিষ্ক বিকৃতি।
ফেবু তে ছবি আপলোডের ব্যাপারটা ভালই লাগে,বন্ধুর সাথে, পরিবারের সাথে, প্রেমিক প্রেমিকার সাথে কোন মুহূর্ত থেমে থাকার অভিনব কায়দা দেখলে মনেহয় কাল্পনিক জগতে হলেও সম্পর্ক জিনিসটা হয়তো টিকে আছে পৃথিবীতে এখনো। সুখের কিছু মুহূর্ত যা হয়তো আর কখনই ফিরে আসার নয়। ভালই লাগে দেখতে আপন মানুষটার পাশে দাড়িয়ে ক্যামেরাবন্দি কোন মুহূর্তের আলিঙ্গন যেখানে সবার চোখের কিনারায় ভালবাসার ঘিয়ে ভাজা আনন্দের প্রলেপ দেখা যায়।
কিন্তু কিছু মানুষ সুন্দর সে মুহূর্তগুলোকে আদিখ্যেতার মাত্রাও ছাড়িয়ে মস্তিস্ক বিকৃতির পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বন্ধুবান্ধব, পরিবার বা প্রেমিকা তাদের কে না ভালবাসে! তাই বলে দাত কেলিয়ে, থোতা বাকিয়ে, কুলফি মারিয়ে দিনে ১০ বার তাদের নিয়ে ছবি আপলোড করার অর্থ কি!! কোন উৎসব-অনুষ্ঠান ছাড়াই প্রায় প্রতিটি দিন প্রেমিকার, বন্ধুদের সাথে অমুক রেস্টুরেন্টে, তমুক পার্কে, কোন বালের মায়ের বিয়ার দাওয়াতে ছবি তুলে হ্যাশ ট্যাগ
#‎ghuri
#‎hat_dhori
#‎bal_falai
#‎or_pajamar_color_nil
#‎amar_sando_genjir_rong_golapi
আমরা এসবের মাধ্যমে আসলে প্রমান টা কি করতে চাচ্ছি!আমরা কি আমাদের আপন মানুষগুলোকে তাদের চেয়ে বেশি ভালবাসি যারা হাজারো ছবি দিয়ে নিজেদের সম্পর্কগুলোর মার্কেটিং করছেনা!!এই অতিমাত্রায় ছবি আপলোড এর ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকেদের স্বভাবের সাথে ভাদ্র মাসের কুকুরের মননের সামঞ্জস্য বিদ্যমান।কুকুর ও ঐ সময়টায় অধিকাংশ সঙ্গম লোকসম্মুখেই করে থাকে। আরেকটা কথা এ ধরনের আদিখ্যেতার চর্চা আমি তাদের মাঝেই বেশি দেখি যাদের ভাদ্র মাসের কুকুরের মত সঙ্গী, বন্ধুবান্ধব সময়ভেদে পরিবর্তনের প্রবনতা বেশি। একই প্রোফাইল এ তাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়ে ছেলেকে প্রেমিক প্রেমিকা বানিয়ে এটা ওটা ধরে ছবি তুলে আপলোড করতে দেখেছি, যে মানুষ আজ দাত কেলিয়ে একজনের সাথে হাজারো ছবি আপলোড করল কিছুদিন পর তাদেরকেই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম স্বার্থে পরস্পরের সাথে কুকুরের মত আচরন করতে দেখেছি। হয়তবা আমার পর্যবেক্ষণে দুস্তর ভুল রয়ে গেছে যে এ সকল মানুষকে আমি মস্তিস্ক বিকৃত বলছি, সমাজবিজ্ঞানী না হলেও এটুকু বুঝি সম্পর্ক সে তো তো আত্মার সমন্বয়,বৈশাখী মেলায় বিক্রিযোগ্য কোন পণ্য নয় যার গভীরতা প্রমান করতে গিয়ে বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব, প্রেমিকার সাথে হাজারো ছবি আপলোড দিতেহবে ।ক্ষমা করবেন কাউকে আঘাত দিয়ে থাকলে।


আজিজুল দিনার

অমানুশ যখন মানুশ

ওরা আমায় আহত করে,
কথায় কথায় গুলি ছুড়ে-
এলপাতারি লাঠি মেরে
ওরা আমায় রক্তাত করে।
ক্ষত-বিক্ষত আমার শরীরে
ওরা শান্তির কলাম লিখে
ওরা নাকি শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।
আমায় ঢেকে ওরা উল্লাস করে
জয় ধ্বনিতে মুখরিত হয় সময়
যখন ওরা আমায় হত্যা করে।
ওরা আল্লাহ- খোদা মানেনা
শান্তি চিনেনা- বন্ধুত জানেনা!
ওরা মা চিনেনা ভাই মানেনা
ওরা রক্তের নেশায় অন্ধ মাতাল।
ওরা হাজার লক্ষ প্রান বিনাশ করে
খোদার লিখিত কালাম লঙ্ঘন করে
ওরা নিষ্পাপ মানুষ হত্যা করে
আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে নিরিহ।
তবে কি, ওদের বাধা দেবার নেই কেহ?
তবে কি, ওরা কোন সতি মায়ের সন্তান নয়?
তবে কি, ওরা হিংস্র জঙ্গলি হায়নার দল?
তবে কি, বনের কোন পশু তাদের জন্ম জননী?

 ৩১-০৭-২০১৬